সিবিআই হানা, আজ রাত থেকে মমতার সত্যাগ্রহ! - DeskO [Desk Opinion]

Breaking

Sunday, February 3, 2019

সিবিআই হানা, আজ রাত থেকে মমতার সত্যাগ্রহ!

ধর্নায় বসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিকভাবে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে মমতার এমন সিদ্ধান্ত হলেও, আদতে দেশকে বাঁচাতেই গান্ধীজির পথে আজ রাত থেকেই সত্যাগ্রহে বসছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজীব কুমারের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে নিশানা করেন মমতা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই মোদী-শাহ দেশ জুড়ে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভাঙছেন। আর সেই গণতন্ত্র রক্ষা করতে এবং দেশকে বাঁচাতেই ধর্না তথা সত্যাগ্রহের পথ নিলেন বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মমতা বলেন ‘আমি চললাম মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসতে’।

কলকাতার এই মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেই রাজ্যের তৎকালীন বাম সরকারের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিলেন সে সময়ের বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো কারখানার জন্য অনিচ্ছুক কৃষকদের অধিগৃহীত জমি ফেরতের দাবিতে ২৬ দিন ধর্না অনশনে বসেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই ধর্না এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই রাজ্যে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে মোদী সরকারের সঙ্গে চরম যুদ্ধে সেই চেনা অস্ত্রই ফের ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিলেন এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষিতে অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতার নগরপাল রাজীব কুমারের বাড়িতে হানা দেওয়া সিবিআই তদন্তকারীদের আটক করল কলকাতা পুলিশ। আটক হওয়া সিবিআই আধিকারিকদের রাখা হয়েছে কলকাতার শেক্সপিয়ার সরণি থানায়। রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়ির সামনে রীতিমতো ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধে। আচমকাই নগরপালের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। এই নজিরবিহীন ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে শহর জুড়ে।

গতকাল, অর্থাৎ শনিবার থেকেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, সারদা চিট ফান্ড মামলায় সিবিআই ফের একবার তলব করতে চলেছে রাজীব কুমারকে। এমনকি তিনি এবার গ্রেফতার হতে পারেন, এমন কথাও শোনা যায়। এর আগেও বেশ কয়েকবার তলব হওয়া সত্ত্বেও সিবিআইয়ের সামনে হাজির হননি নগরপাল।

লাউডন স্ট্রিটে নগরপালের বাড়িতে এদিন সিবিআই আধিকারিকদের প্রথমে পথ আটকায় পুলিশ। এর পরে আধিকারিকদের জোর করে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয় বলে খবর। ইতিমধ্যে রাজীব কুমারের সরকারি আবাসস্থলে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই মুহূর্তে বৈঠক করছেন রাজীব কুমারের সঙ্গে। কমিশনারের সরকারি আবাসস্থলে উপস্থিত হয়েছেন পুলিশের অন্যান্য শীর্ষ কর্তারা।

এদিন বিকেলে বেশ কিছুক্ষণ ধরে পুলিশ-সিবিআই কথা হয়। রাস্তার মধ্যেই কলকাতা পুলিশের কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে সিবিআই তদন্তকারীদের কথা বলতে দেখা যায়। কিন্তু, “অনুমতি ছাড়া কমিশনারের বাড়িতে ঢোকা যাবে না” বলে সিবিআইকে সাফ জানিয়ে দেন পুলিশের শীর্ষ কর্তারা।

ঠিক কী ঘটেছে?
সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে কলকাতার নগরপাল রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিবিআই। এর আগে বার তিনেক রাজীব কুমারকে নোটিস পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু তিনি সিবিআইয়ের মুখোমুখি হন নি বলে অভিযোগ।

সূত্রের খবর, এদিন বিকেলে প্রথমে একটি চিঠি নিয়ে পার্ক স্ট্রিট থানায় যায় সিবিআইয়ের দল। সেখানে চিঠিটি ‘রিসিভ’ করতে বলা হয়। কিন্তু পার্ক স্ট্রিট থানার তরফে ওই চিঠি ‘রিসিভ’ করা হয় না। এরপরই চিঠি নিয়ে শেক্সপিয়র সরণি থানায় যায় সিবিআইয়ের দল। সেখানেও সিবিআইকে বেগ পেতে হয়।
 

Pages