রাজ্যসভার চৌকাঠে নাগরিকত্ব-তিন তালাক বিল, শেষ প্রহরে সম্মতি না মিললে ‘বিপত্তি’! - DeskO [Desk Opinion]

Breaking

Wednesday, February 13, 2019

রাজ্যসভার চৌকাঠে নাগরিকত্ব-তিন তালাক বিল, শেষ প্রহরে সম্মতি না মিললে ‘বিপত্তি’!

লোকসভা ভোটের আগে যে বিল নিয়ে ঘরে-বাইরে ‘চাপে’ মোদী-শাহরা, শেষবেলায় সেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলই আটকে যেতে পারে রাজ্যসভায়। নাগরিকত্ব বিলের ভবিষ্যৎ কী? তা আজই জানা যাবে। উল্লেখ্য, গত সোমবার এই বিলটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল বিরোধীদের লাগাতার হই-হট্টগোলের জেরে রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব বিলের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। লোকসভায় আগেই পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব বিল। আজ সংসদের বাজেট অধিবেশনের শেষদিনে রাজ্যসভায় এই বিল পাশ হয় কিনা সেটাই দেখার।

নাগরিকত্ব বিলের পাশাপাশি দ্য মুসলিম উইমেন বিলও (তিন তালাক বিল) রাজ্যসভায় পাশ হওয়ার কথা। সে বিলও যদি শেষমেশ পাশ না হয়, তাহলে তাও আটকে যেতে পারে।

নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতা জানিয়ে প্রথম থেকেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। এমনকি এ বিলের প্রতিবাদ জানিয়ে আসরে নেমেছে এনডিএ শরিকরাও। নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে এনডিএ জোট ভেঙেছে অসম গণ পরিষদ। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে এ বিল নিয়ে বিক্ষোভ চলছেই। তবুও এ বিল পাশ করাতে মরিয়া মোদী সরকার। কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই নাগরিকত্ব বিল কেন তালিকাভুক্ত করা হল, তাই নিয়ে সরব হয়েছে সমস্ত বিরোধী দল।নাগরিকত্ব ও তিন তালাক বিল আগেই লোকসভায় পাশ হয়েছিল। লোকসভায় পাশ হওয়ার পরই তা নিয়মমাফিক পাঠানো হয়েছিল রাজ্যসভায়। সামনেই লোকসভা ভোট। ফলে, আজ রাজ্যসভায় এই বিল পাশ না হলে, নব নির্বাচিত লোকসভায় আবারও এই বিলগুলিকে পাশ করাতে হবে।
 
নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদ জানিয়ে ভূপেন হাজারিকাকে দেওয়া মরণোত্তর ভারতরত্ন প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁর ছেলে তেজ হাজারিকা। যে ঘটনায় বিল-বিতর্ক নয়া মোড় নিয়েছে। এদিকে, গত শনিবার আসামের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, “নাগরিকত্ব বিল পাশ হলে, উত্তর-পূর্বের কোনও ক্ষতি হবে না।”

এদিকে, তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি এ বিলের বিরোধিতা জানিয়ে সরব হয়েছে। চলতি মাসে এ রাজ্যে লোকসভা ভোটের প্রচারে এসে মমতা সরকারকে এ বিল পাশে সমর্থন জানানোর আর্জি রাখেন স্বয়ং মোদী। জবাবে মমতা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাঁরা এ বিল কিছুতেই পাশ করতে দেবেন না। বিরোধীদের পাশাপাশি বিলের বিরোধিতা জানিয়েছে বিজেপির শরিকরাও। রাজ্যসভায় এ বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনতা দল (ইউনাইটেড) বা জেডিইউ। এর আগে এ বিলের প্রতিবাদ জানিয়ে এনডিএ সঙ্গ ত্যাগ করেছে অসম গণ পরিষদ। বিল পাশ হলে, জোট থেকে বেরোনোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি।

Pages