কী করছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, প্রশ্ন মমতার! - DeskO [Desk Opinion]

Breaking

Saturday, February 16, 2019

কী করছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, প্রশ্ন মমতার!

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কী করছিলেন? এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী জইশ-এ-মহম্মদের হামলার প্রেক্ষিতে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবারের ওই হামলাকে ২০১৬-র উরি হামলার পরেই “বৃহত্তম” বলে বর্ণনা করে মমতা বলেন, এ নিয়ে রাজনীতি করা অনুচিত। “আমরা এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না, তাই এখন পর্যন্ত কিছু বলি নি। শুধু আমরা নই, কোনো বিরোধী দলই কিছু বলে নি। আমরা স্রেফ এটুকু বলেছি, যে আমরা দেশবাসীর পাশে রয়েছি। আমরা (তৃণমূল কংগ্রেস) দেশের মানুষ এবং আমাদের জওয়ানদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি। আমি আমাদের জওয়ানদের সেলাম জানাই। পুলওয়ামার ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

এর পরেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ঠিক কী ঘটেছিল তা জানার অধিকার আছে আমাদের। কী করছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা? হামলার আগে কেন কিছু জানতে পারি নি আমরা? কেন মারা গেলেন এতজন জওয়ান? প্রতিটি প্রশ্ন দেশের মানুষের, শুধু আমার নয়। এটি আসলে ইন্টেলিজেন্সের ব্যর্থতা। আমি ব্যক্তিগতভাবে যাঁদের চিনি, সেসব জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরাও বলেছেন, এটি সম্পূর্ণভাবে ইন্টেলিজেন্সের ব্যর্থতা। এতগুলো গাড়ি একসঙ্গে যাচ্ছিলই বা কেন?”
 
নবান্ন থেকে বেরোনোর মুখে মমতা আরও বলেন, গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত না করেই পাকিস্তানকে এই আক্রমণের জন্য দায়ী করা উচিত নয়। “পররাষ্ট্র নিয়ে আমি সচরাচর মন্তব্য করি না, তবে গতকাল হামলার পরেই জানানো হয়, এর পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে। বিষয়টা এতটাই স্পর্শকাতর যে বিস্তারিত তদন্ত না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। আগে তদন্ত হোক, তারপর প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

উল্লেখ্য, জন্মলগ্ন থেকেই পাকিস্তানের মদতপুষ্ট বলে পরিচিত কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী মাসুদ আজহারের নেতৃত্বাধীন জইশ-এ-মহম্মদ। বৃহস্পতিবারের আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যে পুলওয়ামা এবং অবন্তীপোরা থেকে সাতজনকে আটক করেছে জম্মু কাশ্মীর পুলিশ।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার হামলায় মৃত ৪০ জন জওয়ানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়েই দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে নিহত জওয়ানদের দেহ এসে পৌঁছনোর পর শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং নির্মলা সীতারমন, ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, কাশ্মীরে “পাকিস্তান এবং সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর” টাকায় গড়ে ওঠা কিছু “শক্তির” পর্যালোচনা প্রয়োজন। উপত্যকার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ও হুরিয়ত কনফারেন্সের নেতাদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “জম্মু কাশ্মীরে এমন কেউ কেউ আছে যারা আইএসআই এবং জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ জিতবই।”

এদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারমন আজকের মতো তাঁর সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করে দিয়েছেন। জানা গেছে, তিনি আজ তামিল নাড়ু ও কর্ণাটক যাবেন, ওই দুই রাজ্যের মৃত জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, শুক্রবার ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনারকে তলব করে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক এই ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনোভাবে জড়িত থাকার সম্ভাবনা অস্বীকার করেছে, যদিও সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি জারি করে নি পাকিস্তান। বিদেশ মন্ত্রক থেকে ডেপুটি হাই কমিশনারের বেরোনোর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতেও শেয়ার করা হয়েছে।

Pages