মুজফফরনগর দাঙ্গায় সাতজনের যাবজ্জীবন! - DeskO [Desk Opinion]

Breaking

Friday, February 8, 2019

মুজফফরনগর দাঙ্গায় সাতজনের যাবজ্জীবন!

মুজফফরনগর দাঙ্গায় জোড়া খুনের ঘটনায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মুজফফরনগরের স্থানীয় আদালত। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক হিমাংশু ভাটনগর এই রায় দিয়েছেন।২০১৩ সালের ২৭ অগাস্ট গৌরব ও শচীন নামের দুই ব্যক্তিকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুজাস্সিন, ফুরকান, নাদিম, জাহাঙ্গির, আফজল, মুজাম্মিল এবং ইকবালকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।এদের ২ লাখ টাকারও বেশি জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী রাজীব কুমার। জরিমানার অঙ্কের ৮০ শতাংশই মৃতদের পরিবারকে দেওয়া হবে।

২০১৩ সালের ২৭ অগাস্ট দুই তুতো ভাই গৌরব ও শচীন এবং শাহনওয়াজ কুরেশি নামের আরেক যুবক পৃথক পৃথক ঘটনায় খুন হন। সে সময়ে মুজফফরনগরে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গায় ৭২ জন মারা গিয়েছিলেন, ঘরহারা হয়েছিলেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। অতিরিক্ত দায়রা বিচারক গোরব ও শচীনকে খুন এবং দাঙ্গা ছড়ানোর জন্য সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

এ ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তদল ১৭৫টি চার্জশিট দাখিল করে। ঠিক কী কারণে দাঙ্গা হয়েছিল, তার কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও অভিযোগ, জাঠ সম্প্রদায়ের একজন মেয়েকে শাহনওয়াজের গ্রাম কাওয়ালে হেনস্থা করা হয়। তার প্রতিশোধ নিতে নিগৃহীতার আত্মীয় গৌরব এবং শচীন শাহনওয়াজকে খুন করে। এর পর তারা পালাতে গেলে জনতার রোষের শিকার হয়ে মারা যায় এই দুজন। এফআইআরের তথ্য অনুসারে এই দুই যুবককে দোষীদের মধ্যে পাঁচজন পিটিয়ে মেরেছিল।

এর কয়েকদিন পর, ৭ সেপ্টেম্বর দাঙ্গা শুরু হয়। এক মহাপঞ্চায়েত থেকে ফিরতি জনতার উপর আক্রমণ করা হয়। হিংসা ছড়িয়ে পড়ে মুজফফরনগর এবং লাগোয়া জেলাগুলিতে।

২০১৬ সালে ২০১৩-র মুজফফরনগর দাঙ্গার তদন্তে বিচারপতি বিষ্ণু সহায়ের নেতৃত্বে কমিশন গঠিত হয়। ওই কমিশন দাঙ্গার জন্য গোয়েন্দা বিভাগের ব্যর্থতাকে দায়ী করে। দায়ী করা হয় পদস্থ আধিকারিকদের শিথিলতাকেও।

গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বিজেপি সাংসদ সঞ্জীব বালিয়ানের নেতৃত্বাধীন খাপ চৌধরিদের একটি প্রতিনিধিদল মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে দেখা করে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলি তুলে নিতে অনুরোধ জানান। এক মাস পর সরকার জেলা প্রশাসনের কাছে ১৩১টি দাঙ্গা মামলার বিষয়ে রিপোর্ট চায়। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে জেলাশাসক, এসএসপি এবং সরকারি কৌঁশুলির কাছে জনস্বার্থে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। এ ছাড়াও সাধ্বী প্রাচী এবং অন্যান্যদের অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে এমন দুটি মামলার খুঁটিনাটি এবং সে সম্পর্কিত মতামতও চাওয়া হয় সরকারের তরফ থেকে।

Pages