অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে এফআইআর নিন, পুলিশকে নির্দেশ কোর্টের! - DeskO [Desk Opinion]

Breaking

Monday, February 11, 2019

অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে এফআইআর নিন, পুলিশকে নির্দেশ কোর্টের!

কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ শশী থারুরের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগের ভিত্তিতে রিপাবলিক টিভি ও তার প্রধান সম্পাদক অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির এক আদালত। তাঁর অভিযোগে থারুর বলেছিলেন, রিপাবলিক টিভি কর্তৃপক্ষ এবং অর্ণব গোস্বামী থারুরের স্ত্রী সুনন্দা পুষ্করের মৃত্যুর তদন্ত সংক্রান্ত গোপনীয় নথিপত্র চুরি করেছেন, এবং থারুরের ইমেল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছেন।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধর্মেন্দর সিংয়ের কথায়, “… থারুর যে সব অভিযোগ করেছিলেন এবং আর যা যা তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে RTI (Right to Information) সংক্রান্ত উত্তর এবং অন্য সূত্রে, তাতে ফৌজদারি মামলার যোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হয়। তবে আদালতের মতে, বিষয়টির পুলিশি তদন্ত প্রয়োজন, কারণ, সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের হাতে কী করে ওইসব তথ্যপ্রমাণ পৌঁছল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।”

আদালতের আরও বক্তব্য, “বেশ কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা প্রয়োজন… এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট স্টেশন হাউজ অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এ বিষয়ে এফআইআর দায়ের করে আইনানুগ তদন্ত করতে।” ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টিকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতুবি রেখেছেন, যে সময়ের মধ্যে পুলিশকে নির্দেশ পালন করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

থারুরের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সিনিওর অ্যাডভোকেট বিকাশ পাহওয়া এবং অ্যাডভোকেট গৌরব গুপ্তা রিপাবলিক টিভির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা প্রধান সম্পাদক অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তিনি অবৈধভাবে পুলিশের তদন্ত সংক্রান্ত গোপনীয় নথিপত্র হস্তগত করেন, এবং থারুরের ইমেল আইডি হ্যাক করে কিছু ব্যক্তিগত ইমেলের নাগাল পান, যেগুলি এরপর নিউজ চ্যানেলে প্রচারিত হয় দর্শক সংখ্যা বাড়ানোর জন্য।

থারুর এও দাবী করেছেন যে চ্যানেলে এমন কিছু নথি ও ছবি প্রচার করা হয় যেগুলি সুনন্দা পুষ্করের মৃত্যুর তদন্তের সঙ্গে জড়িত। থারুরের কৌঁসুলির বক্তব্য, “উল্লিখিত নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে দিল্লি পুলিশের অভ্যন্তরীণ ফাইলের নোটের কপি, দিল্লি পুলিশকে দেওয়া অভিযোগকারীর বয়ানের কপি, অভিযোগকারীর সহায়ক শ্রী নারায়ণ সিংয়ের বয়ানের কপি, ও মৃতার ময়না তদন্ত চলাকালীন তোলা ছবি।”

কৌঁসুলির আদালতের কাছে আরও বক্তব্য, দিল্লি পুলিশের দেওয়া RTI সংক্রান্ত উত্তর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে নথিগুলি “অবৈধভাবে” হস্তগত করা হয়েছে, এবং “একটি মামলার তদন্ত চলাকালীন কোনো মিডিয়া বা সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে তদন্ত সংক্রান্ত কোনোরকম তথ্য বা নথিপত্র ভাগ করে নেওয়া অনুমোদিত নয়”।

থারুরের দাবী, RTI সংক্রান্ত উত্তর থেকে যদিও এটা স্পষ্ট যে অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে নথিপত্র হস্তগত করেছেন, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুুুুলিশ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। চার পাতার অর্ডারে আদালত উল্লেখ করে যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেশন হাউজ অফিসারকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

আদালতকে থারুরের কৌঁসুলি আরও জানান যে এ বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন থারুর, এবং গোস্বামী ও তাঁর চ্যানেলের কাছে মানহানির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবী করে ট্রায়াল কোর্টে একটি ফৌজদারি মামলাও দায়ের করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি দিল্লির এক বিলাসবহুল হোটেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় থারুরের তৃতীয় স্ত্রী সুনন্দা পুষ্করকে। এই মামলায় থারুরের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা যোগানোর অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করে দিল্লি পুলিশ। ট্রায়াল কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, চার্জশিটের প্রতিলিপি বা কপি যেন মিডিয়া-সহ কোনো তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া না হয়।

Pages